Tuesday, 26 April 2011

পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষে জামায়াতের উদ্বেগ : পার্বত্য চুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

গত রোববার খাগড়াছড়িতে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের আক্রমণে চারজন বাঙালি নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে ওই এলাকার জনগণের সহায়-সম্পদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ১০ বছরে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে ১৯০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং ৪৫০ জনের মত পাহাড়ি ও বাঙালি নিহত হয়েছে। গত ৩ মাসে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, পার্বত্য শান্তিচুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার জনগণের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ চুক্তি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। যখন এ চুক্তি হয়েছিল তখনও আমরা বলেছিলাম, এ অসম চুক্তি ওই এলাকার জনগণের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। আমাদের সে কথাই আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তথাকথিত শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে যে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে সেখানে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তদুপরি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য বাঙালি এবং সারাদেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করার ফলেই আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
তিনি খাগড়াছড়ির বানগড় উপজেলার বড় পিলাক কচু বাউন্তী এলাকায় রোববার পাহাড়িদের হামলায় ৪ জন বাঙালি নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি, নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দান এবং ওই এলাকার সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অনিয়ম দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হয়ে এনটিআরসিএ বিলোপের সিদ্ধান্ত

রিয়াজ চৌধুরী

অনিয়ম-দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে একটি পৃথক শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, যা শিক্ষকদের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের ব্যবস্থা করা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। তবে তা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার স্তরভিত্তিক বেসরকারি শিক্ষকের জন্য উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা, জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে ন্যূনতম শিক্ষক মান নির্ধারণ করা, তুল্যমানের একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের ব্যবস্থা করা এবং তাদের তালিকা বা পুল তৈরি করা এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষক ভুয়া এনটিআরসিএ’র সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। নিয়মিত এ বিষয়ে মাউশিতে অভিযোগ আসছে। কিন্তু মাউশির একটি অসাধুচক্র অনৈতিক পন্থায় ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করছে। এসব অনিয়মের পাশাপাশি অন্যান্য কারণেও সংস্থার ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। দুর্নীতি ও অনিয়মে বেসামাল হয়ে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে জাতীয় শিক্ষানীতিতে এনটিআরসিএকে বিলুপ্ত করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি পৃথক শিক্ষা কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে যাতে শিক্ষক নিয়োগে কোনো ত্রুটি থাকবে না। দুর্নীতি-অনিয়ম থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নিতে হবে। পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকবে, সেই শূন্যপদের তালিকা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ফলে মানসম্মত শিক্ষকের অভাব আর থাকবে না। তাহলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সংস্থায় ভুয়া সনদধারী ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। এনটিআরসিএ’র নিয়োগ কমিটি গত বছরের ১৮ মে দুজন সহকারী পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করে। কিন্তু সংস্থার তত্কালীন চেয়ারম্যান কবীর উদ্দিন আহমেদ সরকারি নিয়মনীতি, সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রবিধানমালা এবং এনটিআরসিএ আইন ২০০৫-এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৬ জন সহকারী পরিচালক নিয়োগ দেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ অনিয়ম প্রমাণিত হয়। পরে সংস্থার ৩২তম নির্বাহী কমিটির সভায় ৫ জন সহকারী পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করার জন্য ঐকমত্য পোষণ করা হয়। কিন্তু এ নিয়োগ আর বাতিল করা হয়নি। এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএ’র ৩৫তম নির্বাহী বোর্ডের সভায় সংস্থার এমএলএসএস মো. রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কারণ তার নিয়োগকালীন দাখিলকৃত সনদপত্র ছিল ভুয়া। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তার সনদপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর প্রমাণ পেয়েছে বলেও সভায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল নিয়ে চলছে বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, এ পরীক্ষায় শতকরা ৪ দশমিক ৫৭ ভাগ প্রার্থী উত্তীর্ণ হলেও সরকারিভাবে পরীক্ষায় পাসের হার ১৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে সংস্থায় তোলপাড় চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ফল জালিয়াতি হয়েছে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান, একজন সদস্য (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) ও একজন উপ-পরিচালক কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় তিনশ’ জনকে পরীক্ষায় পাস করিয়েছেন। এছাড়া আবশ্যিক বিষয়গুলোতে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান) বেশিরভাগ প্রার্থী ফেল করায় তাদেরকে গ্রেস নাম্বার দিয়ে পাস করানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি ওপেন সিক্রেট বলে ওই কর্মকর্তা জানান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করত ঢাকা বোর্ডের কম্পিউটার সেন্টার। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো বায়োমেট্রিক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান ফলাফল তৈরির কাজটি করে। জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটির মালিক এনটিআরসিএ’র এক সদস্যের (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাই জালিয়াতচক্র কম্পিউটারের গোপন নম্বর, কোড নম্বর জানত। যে কারণে ফলাফল ইচ্ছেমত পরিবর্তন করতে কোনো সমস্যা হয়নি। এদিকে পরীক্ষায় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী যতটা অবজেক্টিভ প্রশ্নের উত্তরে টিক মার্ক দিয়েছেন, তার চেয়ে কয়েক নম্বর বেশি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এ পরীক্ষায় যারা পাস করেননি, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। গত ২০ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের অবহেলা, উদাসীনতা, দুর্নীতি, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটির কারণে ষষ্ঠ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন পরীক্ষায় আমরা পাস করতে পারিনি। এ পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুলের তিন শিক্ষিকার (তিনজনই সরকারদলীয় নেতার স্ত্রী) বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ নিয়ে এমপিওভুক্তির সুবিধা নেয়ার অভিযোগ আসে মাউশিতে। কিন্তু এই সনদ জালিয়াতির দায়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। উল্টো যাদের বিরুদ্ধে সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগ আসে, তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে ভুয়া সনদ দিয়ে অনেকে চাকরি করছেন। এমনকি এমপিওভুক্তির সময় মাউশি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনটিআরসিএ’র সনদ যাচাই-বাছাইও করেন না।
সনদ জালিয়াতির বিষয়ে এনটিআরসিএ সদস্য (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) ও যুগ্ম সচিব ছামেনা বেগম আমার দেশকে বলেন, এনটিআরসিএ’র সনদ জালিয়াতচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং সব জেলা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সংস্থার নিজস্ব ও স্থায়ী অফিস নেই। আইন বিষয়ক একজন কর্মকর্তাও নেই, নেই পর্যাপ্ত জনবলও। তাই আমরা ইচ্ছা করলেই দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। তিনি জানান, ভুয়া সনদের বিষয় চিহ্নিত হওয়ার পর এমএলএসএস মো. রাকিব হোসেন চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এখন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ফল ঠিকই আছে; কোনো অনিয়ম হয়নি।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর মো. নোমান উর রশিদ আমার দেশকে বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগাম টেনে ধরতে সরকার সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতিতে একটি পৃথক শিক্ষা কমিশন গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি হুট করেই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এটা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে কত বছর লাগবে এখনই বলা মুশকিল।
মাউশি পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর দীপক কুমার নাগ আমার দেশকে বলেন, প্রায়ই এনটিআরসিএ’র ভুয়া সনদ চিহ্নিত করছে মাউশি। তবে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার যেসব শিক্ষকের এনটিআরসিএ’র সনদপত্র জাল বা সন্দেহজনক মনে হয়, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এনটিআরসিএ’তে পাঠানো হয়। এতে সনদপত্র জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত বিধি অনুসারে দেশের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে। দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ বেতন সরকার প্রদান করলেও পরিচালনা পর্ষদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া বহুক্ষেত্রে নানারকম অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটে। এমনই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এনটিআরসিএ। কিন্তু সেই সংস্থাও অনিয়ম-দুর্নীতির বেড়াজাল হতে বেরুতে পারেনি।

আবারও অস্থির পণ্যবাজার : মাছ-গোশত চাল চিনি তেল রসুনের দাম বেড়েছে, ইলিশের কেজি ১০০০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার

আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ-গোশত, চাল, চিনি, তেল, রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) অনুসন্ধানে গত সপ্তাহে তিনটি পণ্য তেল, চিনি ও রসুনের দাম বেড়েছে বলে ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মাসের প্রথম সপ্তাহে বিকিকিনি বেশি হওয়ার সুযোগ নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন নামি দামি কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সঙ্কটের সুযোগে দাম বেড়ে যায়। ক্রেতারা জানান, সবশ্রেণীর ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে বেশি মুনাফা লুটে নেয়। তারা বাজার মনিটরিংয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। রাজধানীর একাাধিক বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মাছ ও গোশতের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশ মাছের কেজিপ্রতি দাম দ্বিগুণ বেড়ে এক হাজার টাকায় উঠেছে। ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ৭-৮শ’ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, পাঁচদিন পরই বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। এ উত্সবের অন্যতম অনুষঙ্গ পান্তা-ইলিশ। এ কারণে দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ, মাছ ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। অন্যান্য মাছের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি শিং মাছ ৪৫০-৫০০ টাকা, আইড় মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, রুই ও কাতল মাছ ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে গোশতের দামও। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৩৫০-৪০০ টাকা, ব্রয়লার ১৩০ টাকা, লেয়ার ১২৫ টাকা, গরুর গোশত ২৮০ টাকা ও খাসি ৪৫০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডিমের দাম প্রতি হালি ২৪ টাকা।
টিসিবি’র হিসাবে গত সপ্তাহে তিনটি পণ্য তেল, চিনি ও রসুনের দাম বেড়েছে। সংস্থার মতে, পাম তেল (খোলা) লিটারে ৩ টাকা, চিনির দাম কেজিতে ১ টাকা ও রসুনের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাম তেলের লিটার ৯১-৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪-৯৫ টাকা, চিনির দাম ৫২-৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৩-৫৬ টাকা ও রসুনের দাম ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫-১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাম তেল (খোলা) প্রতি লিটার ১১০ টাকা, চিনি (খোলা) ৫৫-৫৬ টাকা ও রসুন ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১২০ টাকা, তীর ব্রান্ডের ৫ লিটার ৫৬০-৫৭০ টাকা, রূপচাঁদা ৫৭০, নূরজাহান ৫৬৫, দাদা ৫৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাল ব্যবসায়ীরা জানান, মিনিকেট চাল কেজি ৫৪-৫৫ টাকা, পারি ৪১-৪২ টাকা, বিআর (২৮) মানভেদে ৫০-৫১ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৪৪-৫০ টাকা, স্বর্ণা ৩৬-৩৭ টাকা, হাসকি ৩৬-৩৭ টাকা ও পোলাও চাল মানভেদে ৬৫-৮০ টাকা। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি খোলা আটা ৩০-৩৩ টাকা, প্যাকেটজাত ২ কেজি ৭০-৭২ টাকা, মসুর ডাল দেশি ১০৫ টাকা কেজি, ক্যাঙ্গারু ১১০-১১৫ টাকা, মোটা দানা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলাজাত পণ্যের মধ্যে দেশি আদা প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা, দেশি রসুন ৬০-৭০ টাকা কেজি, আমদানি রসুন ১৪০-১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা এবং হলুদ ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির বাজারে চড়াভাব বিরাজ করছে। করলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, গোল বেগুন ২৫-৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, শসা ২০-২৫ টাকা, আলু ১০ টাকা, মরিচ ৪০ টাকা এবং টমেটো ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Sunday, 27 March 2011

একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা : ভালো নেই আড়াইহাজারের তাঁতমালিক ও শ্রমিকরা













আলাউদ্দিন আরিফ, আড়াইহাজার থেকে ফিরে
ভরদুপুর, বিদ্যুত্ও আছে। যে মেশিনটিতে কর্মব্যস্ত সময় কাটানোর কথা, সেটির পাশেই বিছানা পেতে শুয়ে থেকে অলস সময় কাটাচ্ছেন আইয়ুব মিয়া। তার কারখানাটি দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কোনো কাজ নেই। তাই হাতে অফুরন্ত সময়। সুতার অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে কাপড় বুনে পড়তায় পোষায় না। তাই ছোট্ট এই কারখানাটির মালিক হাজী ইস্রাফিল সেটি সচল রাখতে পারছেন না। সুতার দাম যদি স্বাভাবিক হয়—এই আশায় অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ছাড়তে চাইছেন না। আইয়ুব মিয়া জানান, ‘সুতার দাম ডাবল দুই ডাবল বাড়ছে; পাউন্ডে বাড়ছে দেড়শ’ ট্যাহার বেশি। পড়তায় পোষায় না, তাই মেশিন বন্ধ।’ আশরাফ টেক্সটাইল নামে ছোট ওই কারখানাটির মালিক বসিয়ে রেখেই অল্পস্বল্প বেতন দিচ্ছেন ২০ জন শ্রমিককে। আইয়ুব মিয়ার কারখানাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার দুপতারা ইউনিয়নের কালীবাড়া বাজারের কাছে পাটিতাপাড়ায়। এখানকার প্রতি ঘরে ছোট ছোট অসংখ্য তাঁতকল। সুতার দামের পাগলা ঘোড়ার কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রামের মানুষ কেমন আছে দেখার জন্য আমরা গত সোমবার সরেজমিনে যাই ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। এ উপজেলাটি তাঁত ও শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ। এখানকার বাসিন্দারাও বেশ বিত্তবান। কিন্তু এখন তাদের সেই বিত্তে চিড় ধরেছে। এখন অনেকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁতের কারখানাগুলো। ভোলাব, দাইদপুর, মাহ্মুদপুর, সাতগ্রাম, গোপালদী, বিশনন্দী, উচিতপুরা, খাগকান্দা, হাইজাদী, কালাপাহাড়িয়া, দু্পতারা, কালীবাড়ি, সদাসদী, ব্রাহ্মণদী, ফতেপুর, ছোট বিনাইয়েরচর ও আড়াইহাজার এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে মানুষের দুর্দশার চিত্র। এসব এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনসহ নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। তার ওপর এলাকার অর্থনীতির মূলশক্তি তাঁতগুলোর প্রায় সবই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে উপজেলাজুড়ে অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির গ্রাহক হিসাব অনুযায়ী আড়াইহাজার উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে তাঁত কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ৫৯৩টি। একেকটি কারখানায় কমপক্ষে ২০ থেকে ৫শ’ পর্যন্ত তাঁতকল আছে। গত এক মাসে ১২২টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে; স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুত্ সংযোগ। ১৩টি কারখানার সংযোগ স্থায়ীভাবে কেটে দেয়ার জন্য গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, যেসব কারখানায় এখনও বিদ্যুত্ সংযোগ আছে সেখানেও ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ তাঁতকল বন্ধ। পরে সংযোগ পেতে বিড়ম্বনা হবে বা শ্রমিক পাওয়া যাবে না—এই আশঙ্কায় মালিকরা এখনও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুরো উপজেলা তাঁতকলশূন্য হয়ে পড়তে পারে বলে উপজেলা পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির এক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আড়াইহাজার উপজেলার যে কোনো সড়কের দু’পাশেই সারি সারি ঘরে হাজার হাজার তাঁতকল। দিন-রাত দুই শিফটে খটখট শব্দ করে সার্বক্ষণিক সচল থাকত তাঁতকলগুলো। এখন এসব ঘরে ঝুলছে তালা। শোনা যাচ্ছে না তাঁতের খটখট শব্দ। ছোটখাটো তাঁত মিলের অনেকে নিজের কারখানা বিক্রি করে কাজ নিয়েছেন অন্যের কারখানায়। ঋণের দায়দেনার ভয়ে পালিয়েও বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ।
দুপতারা এলাকার প্রমিজ টেক্সটাইলের ম্যানেজার কমলচন্দ্র দাস বলেন, সুতার দাম বাড়ায় তাদের ৪৮টি কলের ২৫টি বন্ধ করে দিয়েছেন। যে কয়টি চালু আছে, সেগুলোও শ্রমিকদের অনুরোধে চালু রেখেছে মালিকপক্ষ। একদিকে সুতার বাড়তি দাম; অন্যদিকে লোডশেডিং—সব মিলিয়ে খুবই বিপদে আছেন তারা। আগে যেখানে একজন শ্রমিক দিনে দুই থেকে আড়াইশ’ টাকা রোজগার করতেন, এখন তাদের ১০০ থেকে ১৫০ টাকা রোজগার করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তাঁত কারখানায় কাজ করে ছোট বিনাইয়েরচর গ্রামের শফিকুল ইসলাম। আগে সপ্তাহে রোজগার করত ১৫শ’ থেকে দুই হাজার টাকা। এখন কারখানা বন্ধ। মা-বাবা, ভাইবোনসহ ৫ জনের সংসার। কারখানা বন্ধ হলেও অভিজ্ঞ শ্রমিক হওয়ায় মালিক এখনও বিদায় দেয়নি। সপ্তাহে ৫শ’ টাকা করে দেন। এই টাকা দিয়েই চলছে তাদের সংসার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন। এখন সেটার কিস্তি দেয়াই দায় হয়ে পড়েছে বলে জানালেন শফিকুল।
কালীবাড়ি বাজার এলাকার তারিকুল ইসলাম টিপু জানান, তাদের ১২টি তাঁতকল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন পুরোপুরি বেকার। অন্য কোনো কাজও তেমন একটা শেখেননি। ফলে নিদারুণ কষ্টে কাটছে তাদের দিন।
আড়াইহাজারের থানকাপড়ের ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ও আমান উল্লাহ জানান, সুতার বাজার প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। একদিন পাউন্ডপ্রতি ২-৩ টাকা দাম কমলে পরেরদিন আবার ১৫-২০ টাকা বেড়ে যায়। একই হারে কাপড়ের দাম বাড়ছে না। তার ওপর বড় মিলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না ক্ষুদ্র কারখানার শ্রমিকরা। ফলে দিন দিন তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা এ অবস্থার জন্য সুতার বাজারে সিন্ডিকেট ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ
















খুলনা অফিস

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন খুলনা জেলা ও মহানগর সংসদের উদ্যোগে গতকাল সকালে নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বাণিজ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকাসহ মিছিল নিয়ে পিকচার প্যালেস মোড়ে আসে এবং তাতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তৃতা করেন যুব ইউনিয়ন খুলনা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, হৃদয় সরকার, ওবাইদুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম শান্ত, মঞ্জুরুল ইসলাম সাগর, সুজন নাথ প্রমুখ। সমাবেশে নেতারা বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন

Wednesday, 23 February 2011

শেয়ারবাজারে ধসের পর ধস : ৫ মিনিটে ৬শ’ পয়েন্ট পতন : অনির্দিষ্টকালের জন্য লেনদেন বন্ধ : অর্থমন্ত্রী চুপ


বিশেষ প্রতিনিধি

শেয়ারবাজারে ধসের পর ধস চলছে। টানা ৬ কার্যদিবসে অস্বাভাবিক দরপতনে শেয়ারবাজার এখন অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর লেনদেন শুরু হয়ে মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় সূচক ৬০১ পয়েন্ট কমে গেলে তাত্ক্ষণিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসসি) লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীরা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে তাদের তাড়িয়ে দেয়। গ্রেফতার করা হয় ২২ জনকে। আহত হন অনেকে। শেয়ারবাজারে ধসের প্রতিবাদে মতিঝিল কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
ডিএসসিতে আবার কবে লেনদেন শুরু হবে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু না বললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বলেছে, রোববার লেনদেন হবে না। ওইদিন ঠিক হবে কখন আবার লেনদেন শুরু হবে।
টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর এসইসি মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিএসসি সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন ঠেকাতে ২২৫ পয়েন্ট উত্থান বা পতনের সঙ্গে সঙ্গে ডিএসসিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। বুধবার এটা কার্যকর করা হয়েছিল। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর বেলা ১টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ৬০১ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২২৫ পয়েন্ট সূচক পতনের পর কেন লেনদেন বন্ধ হয়নি এর জবাবে ডিএসসির সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ডিএসসির সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় করা যায়নি। আগের দিন এটা ম্যানুয়েলি করা হয়েছিল। গতকাল এত দ্রুত দরপতন হয় যে, নির্দিষ্ট সার্কিট ব্রেকারে ম্যানুয়েলি সেটা করা সম্ভব হয়নি। লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই হাজার বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।
অব্যাহত দরপতনের কারণে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এবং এসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬টি হাউসে অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় এসব হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে এসব হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে দফায় দফায় বড় বড় ধসের পর বিনিয়োগকারীরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা অর্থমন্ত্রী কিংবা সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে না। গত দু’দিনে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও মিডিয়ায় কোন মন্তব্য করেননি। দিন দশেক আগে বিদেশ যাওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যবসা করতে গেলে লাভ-ক্ষতি মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। লাভ হলে মিষ্টি খাবেন, আর ক্ষতি হলে রাস্তায় নামবেন তা হবে না। দরপতন হতে পারে এ মনোভাব নিয়েই ব্যবসা করতে হবে। আর গতকাল অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান খুলনায় শেয়ারবাজারে ধস ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, বাজার ধসে সরকারের মাথাব্যথার কোন কারণ নেই। শেয়ার ব্যবসায়ীদের দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি বলেন, দ্রুত লাভের আশায় অল্প পুঁজি খাটিয়ে যারা নিজেরা লাভবান হতে চায় তাদের জন্য মন কাঁদে না।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, সরকারের মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম অবস্থার সৃষ্টি করে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা চুষে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে ’৯৬ সালেও তারা একই কাজ করেছিল। আওয়ামী লীগ দু’বার ক্ষমতায় থাকার সময়ে একই ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে এর সঙ্গে তারা জড়িত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য এম কে আনোয়ার মন্তব্য করেছেন, ’৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়করা এবারও টাকা লুট করে নিচ্ছে।
ডিএসসি’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ব্যাংকগুলো শেয়ার মার্কেটে খেলে খেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা নিজেরা লাভ করে উঠিয়ে নিয়েছে। কলমানি মার্কেটে তারা এ টাকা ১৮০ ভাগ সুদে খাটাচ্ছে। মানি মার্কেট থেকে শেয়ার মার্কেটের টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তিনি। পুঁজিবাজারে দরপতনে জড়িতদের শাস্তিরও দাবি করেন ডিএসই’র সভাপতি।
সরকারের অর্থ উপদেষ্টা শেয়ারবাজার নিয়ে বর্তমান সরকারের মাথাব্যথার কারণ নেই বলে মন্তব্য করলেও অতীত ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক অবস্থা চললে সরকার ও নিয়ন্ত্রকরা বসে থাকে না। সরকারি কোষাগার থেকে মার্কেটে বিভিন্ন উপায়ে বিনিয়োগ করা হয়। দেশে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ফান্ড আছে। এরা বিভিন্ন লিস্টেড ও প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার কিনে। অবসর গ্রহণের পর সংশ্লিষ্টরা এ থেকে সুবিধা পায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের শাসনামলে পেনশন ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছিল। তখন সরকার থেকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বেইল আউট ফান্ড তৈরি করে শেয়ার মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
টানা ছয়দিন দরপতনের পর বন্ধ শেয়ারবাজার : শেয়ারবাজারে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতন হয়েছে। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর ১টায় লেনদেন শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় ৬০১ পয়েন্ট সূচক পড়ে যায়। পরে গড় হিসাব করে এই দরপতন ৫৮৭ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন বুধবার নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর লেনদেন শুরু করে ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট লেনদেন শেষে সূচক ২২৫ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় লেনদেন শুরু হয়ে বেলা ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ২৩৭ পয়েন্ট দরপতনের পর এসইসি ঢাকা ও চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এর আগে সোমবার ডিএসসিতে মূল্য সূচকের পতন হয়েছিল ৫৭ পয়েন্ট। রোববার সূচকের পতন হয়েছিল ১৪১ পয়েন্ট। যদিও সেদিন এক পর্যায়ে সূচক ৩১৬ পয়েন্ট কমে গিয়েছিল। আর গত বৃহস্পতিবারে পতন হয়েছিল ১১৫ পয়েন্ট। ডিএসসি’র লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৭টির দামই কমেছে গতকাল। বেড়েছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। গতকাল ডিএসসি’তে মাত্র ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে (১০ জানুয়ারি, মাঝপথে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিন বাদে) ডিএসসি’তে গত ১৫ এপ্রিল সর্বনিম্ন ৭৭২ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ কার্যদিবসেই সূচকের পতন হয়েছে। এর মধ্যে ৯ ও ১০ ডিসেম্বর পর পর দুদিন সূচকের বড় ধরনের পতন হয়। এর মধ্যে ৯ ডিসেম্বর একদিনে ডিএসসিতে সূচকের পতন হয় ৬০০ পয়েন্ট। পরদিন ৫০ মিনিটের মাথায় সূচক ৬৬০ পয়েন্ট পড়ে গেলে ডিএসসি’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এসইসি, ডিএসসি এবং সরকারের প্রতিনিধি যৌথ বৈঠকে বসে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে পরদিন পুনরায় লেনদেন শুরু হয়। ১১ জানুয়ারিতে অস্বাভাবিক হারে সূচক ১ হাজার পয়েন্ট বাড়ে। পরদিন আরও প্রায় ২শ’ পয়েন্ট বাড়লেও এরপর থেকে পর পর তিন কার্যদিবস সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে। ডিএসসি’র সূচক গত ৫ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ যেখানে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে পৌঁছেছিল, কয়েক দফায় তা কমে গতকাল দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১২৩ পয়েন্টে।
৬ ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন বন্ধ : এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬টি হাউসে অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় এসব হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে এসব হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (আইআইডিএফসি), পিএফআই সিকিউরিটিজ, এনসিসি ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং এলায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট। এসব হাউস থেকে বাজার থেকে কম দরে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করার কারণে মাত্র ৫ মিনিটের লেনদেনে গতকাল বাজারের সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে বলে মনে করছে এসইসি। এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী সাংবাদিকদের জানান, আজ (গতকাল) লেনেদেন অস্বভাবাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লেনদেন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর পরই এসইসির কর্মকর্তারা সার্ভিলেন্সে গিয়ে দিনের সব লেনদেন পরীক্ষা করে দেখেন। লেনদেন পরীক্ষা করে ৬টি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বাজারের চেয়ে কম মূল্যে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আগ্রাসী বিক্রির কারণে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন আগামী ১ মাসের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।
গতকালও শেয়ারবাজারে লেনদেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে বেলা ১টা থেকে শুরু হয়। বেলা ৩টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম চালুর কথা থাকলেও মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫৮৭ পয়েন্টের পতন ঘটে। শেয়ারবাজারের লেনদেনের ক্ষেত্রে গত বুধবার সূচকের ওপর যে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয় তার সীমা অতিক্রম করে যাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী, একদিনে সূচকের ২২৫ পয়েন্টের হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ডিএসই সূচক গণনার ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণের কারণে সার্কিট ব্রেকারের নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে গিয়ে লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, সূচক পরিমাপের ক্ষেত্রে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ডিএসই সাধারণ সূচক প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অন্তর সমন্বিত হয়। গতকাল ৫ মিনিট লেনদেনের পর সূচকের সমন্বয় হতেই তা সার্কিট ব্রেকারের সীমা অতিক্রম করে যায়। ফলে দিনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী বলেন, ডিএসই সূচকের ক্ষেত্রে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাতে লেনদেনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সূচকের পরিমাপ নির্ধারিত হয় না। ৫ মিনিট অন্তর অন্তর সূচকের সমন্বয় ঘটে। আর এ সমন্বয় করার সময়ই দেখা গেছে প্রথম ৫ মিনিটে সূচকের পতন হয়েছে ৫৮৫ পয়েন্ট। তিনি আরও বলেন, যদি লেনদেন চলাকালে সূচকের ২২৫ পয়েন্টের হ্রাস বা বৃদ্ধি হতো তাহলে তাত্ক্ষণিকভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতো।
গত কয়েকদিনের টানা দরপতনে টানা বিক্ষোভ চলছে শেয়ারবাজারে। গতকালও শেয়ারবাজারে বিক্ষোভ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা রণক্ষেত্র, আটক ২২ : লেনদেন বন্ধ হওয়ার পরপরই রাস্তায় নেমে পড়ে বিনিয়োগকারীরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় কাগজ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করলে মতিঝিল শাপলাচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় ১৫-২০টি গাড়ি ভাংচুর করে তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ সেখান থেকে ২২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে দরপতনের খবরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ, কারওয়ানবাজার ও মিরপুর এলাকাতেও বিক্ষোভ করে বিনিয়োগকারীরা। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ২টা নাগাদ পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কারওয়ানবাজারে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে মোতায়েন ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। এ ছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়াও র্যাব সদস্যরাও ছিল টহলে। প্রস্তুত ছিল জলকামান। তবে জলকামান ব্যবহার করা হয়নি। দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে পড়লে প্রথমে পুলিশ তাদের বেরিকেড দেয়। তারা যেন জমায়েত হতে না পারে সে চেষ্টা করে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত শত বিনোয়াগকারী রাস্তার দু’পাশ থেকে মিছিল বের করে। পূর্ণিমা সিনেমাহলের ওপর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় পুলিশের ওপর। এরপর বিনিয়োগকারীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। মিছিলে তারা অর্থমন্ত্রী, সিএসসি ও ডিএসসির সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। তারা হরতাল হরতাল বলেও স্লোগান দেয়। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে সবাই সমবেত হয়ে পুলিশকেও ধাওয়া দেয়। পরে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিনিয়োগকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তারা রস্তায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। বিনিয়োগকারীদের দমিয়ে রাখতে কয়েক দফা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যস্ততম মতিঝিল এলাকা যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে। পুলিশ বিনিয়োগকারীদের বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে এবং ২২ জনকে আটক করে পুলিশ মতিঝিল থানায় নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছে পথচারী। পুলিশ ধাওয়া করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আটক করেছে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দেয়ায় তাদের আটক করে গাড়িতে তোলা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও আশপাশের সড়কে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানচলাচল। আগের দিনেও ঠিক একই ধরনের ঘটনায় শতাধিক যানবাহন ভাংচুর হওয়ায় গতকাল মতিঝিলে যানবাহন পার্কিং কম ছিল। সড়ক বন্ধ থাকায় দৈনিক বাংলা মোড় থেকে কমলাপুর এবং ফকিরাপুল থেকে আর কে মিশন রোড পর্যন্ত সড়ক অনেকটাই ফাঁকা ছিল। দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ওইসব সড়কে গাড়ি চলাচল না করায় আশপাশের রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে।
মতিঝিল থানার ওসি সালাহউদ্দিন জানান, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দমাতে পুলিশকে কঠোর থাকতে নির্দেশ রয়েছে। রাস্তায় যানচলাচলে বাধা দেয়া ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কেউ নিরপরাধ হলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। ওসি সালাহউদ্দিন আরও বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা করা হবে। এদিকে মতিঝিল থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) নাসির উদ্দিন বলেন, বুধবারের ঘটনায় দু’জন আটক ও অজ্ঞাত ৯ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। নতুন করে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হবে বলে জানান এসআই নাসির। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৩টায় মতিঝিল এলাকায় ফের গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
বাজার পরিস্থিতি : গতকাল বেলা ১টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই বাজারে ব্যাপক আকারে দরপতন হতে থাকে। দ্রুত পতন ঘটে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সবকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থার সঙ্কট তৈরি হওয়ার কারণে তারা দ্রুত বাজারে তাদের শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। ফলে বাজারে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতার অভাবে শেয়ারের দামের পতন ঘটে। গতকাল লেনদেন হওয়া ১৮২টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমে যায় ১৮০টির। বেড়েছে মাত্র ৮টির এবং অপরবির্তিত ছিল ২টির দাম। অবশ্য ৬টি ব্রোকারেজ হাউস থেকে অস্বাভাবিকভাবে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলে এসইসির প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়েছে। গতকাল সূচকের অস্বাভাবিক দরপতনের পেছনে এটি একটি বড় কারণ বলে মনে করছে তারা। এ জন্য ওই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অবশ্য গতকাল ৫ মিনিটে শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার। ১০ হাজার ৪৩৩টি হাওলায় এ সময়ে হাতবদল হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৮টি।
এসইসির ব্রিফিং : শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এসইসি। এতে এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী বলেন, অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির কারণে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাস বন্ধ থাকবে। তাত্ক্ষণিকভাবেই এসব ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে কারণ দর্শানো নোটিশ ও শুনানির জন্য ডাকা হয়। কিন্তু আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এখন তাদের শুনানির জন্য ডাকা হবে এবং তাদের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে সেসব হাউসের বিনিয়োগকারীদের ডিপি সাসপেন্ড করা হয়নি বলে জানান ইয়াছিন আলী। তিনি বলেন, এসব হাউসের বিনিয়োগকারীরা লিংক একাউন্টের মধ্যে অন্য ব্রোকারেজ হাউসে ট্রান্সফার করে লেনদেন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
সব বড় দরপতনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : গত ৮ ডিসেম্বর থেকে গতকালের আগ পর্যন্ত যতগুলো বড় ধরনের দরপতন হয়েছে তার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৮ ডিসেম্বরে বড় ধরনের দরপতনের পর চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এসইসি। এক মাসের সময় দিয়ে এ কমিটিকে তদন্ত কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিটির মেয়াদ আরও দেড় মাস বাড়ানো হয়েছে। আর এ কমিটি ৮ ডিসেম্বরের পর যে কয়টি বড় ধরনের দরপতন হয়েছে সব কয়টির কারণ অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছেন এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী।
সার্কিট ব্রেকার নতুন আতঙ্ক : শেয়ারবাজারের লেনদেনে বড় ধরনের উত্থান-পতন ঠেকাতে সূচকের সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং সূচকের সার্কিট ব্রেকার বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। গতকাল মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এটিকে এখন বাজারের জন্য নতুন আতঙ্ক হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা মনে করছেন, কারসাজি করে এখন যে কোনো মুহূর্তে বাজার বন্ধ করে দেয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে

Saturday, 29 January 2011

১০ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার : বন্ধ হয়ে গেছে দেশের ৫ শতাধিক রি-রোলিং মিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বন্ধ হয়ে গেছে দেশের ৫ শতাধিক রিরোলিং মিল ও স্টিল মিল। দেশে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েক মাস ধরে লৌহজাত শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রড তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ না থাকায় রিরোলিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেকার হয়ে পড়েছে ১০ লাখ শ্রমিক।
স্ক্র্যাপ জাহাজের অভাবে সীতাকুণ্ডে অবস্থিত অর্ধশত শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ৪০টি ইয়ার্ড এরই মধ্যে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ৮-১০টি ইয়ার্ডে কাঁচামাল থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে কার্যক্রম চালাতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণ সামগ্রীর প্রধান উপাদান রডের মূল্য হু-হু করে বাড়ছে।
বাংলাদেশ রিরোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, দেশের রিরোলিং মিলগুলোতে রড তৈরিতে প্রায় ৮০ ভাগ কাঁচামাল আসে শিপইয়ার্ড থেকে। পুরনো জাহাজ আনতে না পারায় এরই মধ্যে অধিকাংশ ইয়ার্ড বন্ধ রয়েছে। যে কয়টি ইয়ার্ডে জাহাজ কাটা হচ্ছে তারা লোহার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোলিং মিল চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা ঘোষণা দিয়ে মিলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক রোলিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে রডের দাম দিন দিন বাড়ছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি টন লোহার দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৪০ গ্রেডের এমএস (ম্যানুফেকচারিং স্টিল) রডের দাম প্রতি মেট্রিক টন ৪৯ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আর প্রতি মেট্রিক টন ৬০ গ্রেড রডের দাম ৫৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে দাম বাড়ছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জাহাজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে উচ্চ আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ কাটা নিয়ে অচলাবস্থার শুরু হয়। পরে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে একসঙ্গে আমদানি করা ১৬টি জাহাজ নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। শিপইয়ার্ডে বিচিংয়ের অনুমতি না পাওয়ায় এসব জাহাজ বহুদিন বন্দরের বহির্নোঙরে ভেসে ছিল। পরে পরিবেশ অধিদফতর থেকে জাহাজগুলোর বিচিংয়ের অনুমতি দেয়া হলেও কাটার অনুমতি দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে আমদানি করা আরও ৪টি স্ক্র্যাপ জাহাজ বন্দর বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। মোট ২০টি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙা অনিশ্চিত রয়েছে। হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ে বিধিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ ভাঙার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে আমদানি করা স্ক্র্যাপ জাহাজগুলো কোনো কাজে আসছে না। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠন সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ডগুলোতে অন্তত ১৫ লাখ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন কাটার কাজ চলছে এমন স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে রিরোলিং মিলে সরবরাহ করার মতো এক লাখ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপও নেই। এজন্য বাজারে রডের দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ রিরোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টিল স্ক্র্যাপ বায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় অচলাবস্থা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত গতকাল থেকে রিরোলিং ও স্টিল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেলা এবং শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হতে চলেছে। সেইসঙ্গে ভেস্তে যাবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। রিরোলিং শিল্পের মালিকরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ অচলাবস্থার নিরসন না হওয়া পর্যস্ত সব রিরোলিং ও স্টিল মিল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।