Saturday, 18 August 2012

নতুন জামা না দিতে পেরে দুই সন্তানকে পদ্মায় ফেলে দিলেন বাবা

Sat 18 Aug 2012 5:51 PM BdST
কুষ্টিয়া, ১৮ আগস্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ঈদের নতুন পোষাক কিনে দিতে না পেরে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতুর উপর থেকে দুই সন্তানকে পদ্মায় ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড বাবা। শনিবার দুপুরে নির্মম এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বারদাগ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মালেক। এলাকাবাসী জানিয়েছে, আব্দুল মালেকের দুই সন্তান মুন্নি (১০) ও মানসুর (৫) ঈদের জন্য বাবার কাছে নতুন জামা কাপড় চায়। নতুন জামার জন্য সন্তানেরা জেদ করলে বাবা তার দুই সন্তানকে ঈদের জামা কাপড় কিনে দেওয়ার জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু আব্দুল মালেক দুই সন্তানকে বাজারের দিকে না দিয়ে লালন শাহ ব্রিজের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। বাজারে না গিয়ে ব্রিজের ওপর কেন যাচ্ছো সন্তানদের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে মালেক প্রথমে মুন্নীকে সেতুর ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনা দেখে শিশুপুত্র মানসুর জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিৎকার করতে করতে দৌঁড়াতে থাকে। কিন্তু বাঁচতে পারেনি পাষণ্ড পিতার হাত থেকে। কিছুদূর যাওয়ার পরই মানসুরকে ধরে ফেলে মালেক। পরে তাকেও হাত পা ধরে বোনের মতই পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ দেয়। এলাকাবাসী মালেককে উদ্ধার করতে পারলেও তার দুই সন্তানকে নদী থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। মালেককে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মালেক জানান ‘অভাবের সংসার, পেটে ভাত নাই, সন্তান বাঁচি রাখি কী করব? তাই ব্রিজের ওপর নিয়ে ওদেরকে ফেলি দিছি।’ নিহত সন্তানদের মা মমতাজ খাতুন বলেন, শনিবার সকাল ৯টার দিকে দুই ছেলেমেয়েকে জামা কাপড় কেনা ও চুল কাটানোর কথা বলে নিয়ে যায় মালেক। এরপর তাদের কেউ আর ফিরে আসেনি। পরে তিনি শুনতে পান, ছেলে-মেয়েকে তার স্বামী নদীতে ফেলে দিয়েছেন। ভেড়ামারা থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মতিন বলেন, মালেককে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই সন্তানকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা সুস্থ অবস্থায় তিনি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দুই সন্তানকে উদ্ধারে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীতে নেমেছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলছে। রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/একেএ/মাম_১৭৪৯ ঘ. http://www.real-timenews.com/details.php?id=50850&p=1&s=4

No comments:

Post a comment