Monday, 20 August 2012

নিজেদের অসহায় বললেন সাঈদীর পরিবার, সাক্ষী ও ভক্তরা : সাঈদীর সাক্ষীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ ও সরকারি দলের যৌথ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের বাড়িতে শবেকদরের রাতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। আওয়ামী নেতাকর্মীদের হুমকি ও পুলিশি গ্রেফতার অভিযানের মুখে আল্লামা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী ও তার ভক্তরা এখন এলাকা ছাড়া। তাদের নিজ বাড়িতে না ফিরতে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে বলে জানান স্থানীয়রা। সাঈদীর পরিবার এ ঘটনায় নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে সরকার গায়ের জোরে কথিত বিচারের মাধ্যমে একজন নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলাতে চায় বলে অভিযোগ করেন। বলেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার পর জীবন নিয়ে কেউ ফিরে আসতে পারবে না বলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মহড়া দিচ্ছে। তবে পুলিশের দাবি সাক্ষীদের গ্রেফতার করতে নয়, তাদের খোঁজখবর নিতে বাড়ি বাড়ি গিয়েছে। প্রসঙ্গত, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ একাধারে সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হলে পুলিশের তৈরি করা জবানবন্দিই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামি পক্ষে ৪৮ জন সাক্ষীর তালিকা জমা দেয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ ২০ জন সাক্ষ্য দিতে পারবেন জানিয়ে ২৮ আগস্ট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করার আদেশ দেন। সেদিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের এ সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যা দিয়ে এটি ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন। এভাবে সাক্ষী লিমিট করে দেয়াটা আসামিকে হাত পা বেঁধে জবাই করে দেয়ার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তারা। এসবের পর সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে এমন হয়রানির অভিযোগ উঠল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার নলবুনিয়া, টেংরাখালী, হোগলাবুনিয়া ও গদরহাওলা গ্রামে পবিত্র শবেকদরের রাতে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবদুর রশীদ, খায়রুল আলম, মোশররফ হোসেন, হেমায়েত শরীফ, ছাবেল ফকির, ইসমাইল, আবদুর রবসহ প্রায় একাধিক বাড়িতে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হানা দেয়। রাত ১১টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলে। আওয়ামী লীগ নেতারা জীবনের প্রতি মায়া থাকলে সাঈদীর পক্ষ ছাড়তে সাক্ষীদের হুশিয়ার করে দেয়। পুলিশের অভিযান ও আওয়ামী কর্মীদের জীবন নাশের হুমকির মুখে গত তিন দিন ধরে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে পুলিশ প্রথমে ২টি গাড়ি নিয়ে অভিযানে নামে। পরে নসিমন টাইপের গাড়ি নিয়ে ছোট রাস্তা দিয়ে গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারা সাঈদীর পক্ষে মুখ খুললে জেলে যাওয়া লাগবে বলেও হুমকি দেয়। তাদের এমন আকস্মিক অভিযানের কারণে গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুসল্লিরা মসজিদে ইবাদতে থাকায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এসব গ্রামে সরেজমিন সাঈদীর পক্ষের কোনো সাক্ষী বা ভক্তদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মহিলারা জানান, অভিযানের পর পুরুষরা গ্রেফতার ও হামলার আশঙ্কায় গা ঢাকা দিয়েছে। মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের আইনজীবীরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরকারের বানানো সাক্ষীদের জেরার মাধ্যমে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে ১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোনো ভূমিকা আল্লামা সাঈদীর ছিল না। কথিত যুদ্ধাপরাধরে সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। এ সত্য প্রমাণ হওয়ার পর এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ডিফেন্স সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণের পরপরই আমাদের সাক্ষীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ বেপরোয়া অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা গায়ের জোরে একজন নিরপরাধ মজলুমকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শাস্তির মুখোমুখি করতে চায়। ‘যুদ্ধাপরাধ নয় জনপ্রিয়তায় আমার বাবার বড় অপরাধ।’ যোগ করেন মাসুদ।’ ডিফেন্স টিমের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এ গ্রেফতার অভিযান প্রমাণ করে মাওলানা সাঈদীকে বিচারের নামে জোর করে সাজা দিতে মরিয়া সরকার। তিনি বলেন, আমরা আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট মিথ্যাচার হিসেবে প্রমাণ করতে সচেষ্ট। কিন্তু বিচারচলাকালে সরকারের এমন আচরণ একজন নাগরিকের প্রতি জঘন্য অবিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জিয়ানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কাউকে হুমকি দেয়ার কথা না। এ ধরনের কোনো খবর আমি জানি না। পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবদুল মালেক বলেন, এ খবরের সত্যতা আমার কাছে নেই। সাঈদীর মামলার সাক্ষী সব জিয়ানগর থানায়। ওখানে যোগাযোগ করতে পারেন। জিয়ানগর থানার সেকেন্ড অফিসার আবদুল মালেক বলেন, সাক্ষীরা কোথায় থাকে কি করে জানতে গিয়েছি। তাদের গ্রেফতার করতে যাইনি। তিন দিন ধরে তারা গ্রামছাড়া কেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তা জানি না। এমন কথা আমরা শুনিনি। উল্লেখ্য, গত ১৪ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাঈদীর পক্ষে জমা দেয়া ৪৮ জন সাক্ষীর তালিকা থেকে মাত্র ২০ জনকে স্বাক্ষ্য দিতে দেয়া হবে বলে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আদেশে বলা হয়, ২৩ তারিখের মধ্যে নতুন করে ২০ জনের তালিকা এবং ২৮ তারিখ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হবে। http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/08/18/159877

No comments:

Post a comment