Wednesday, 23 February 2011

শেয়ারবাজারে ধসের পর ধস : ৫ মিনিটে ৬শ’ পয়েন্ট পতন : অনির্দিষ্টকালের জন্য লেনদেন বন্ধ : অর্থমন্ত্রী চুপ


বিশেষ প্রতিনিধি

শেয়ারবাজারে ধসের পর ধস চলছে। টানা ৬ কার্যদিবসে অস্বাভাবিক দরপতনে শেয়ারবাজার এখন অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর লেনদেন শুরু হয়ে মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় সূচক ৬০১ পয়েন্ট কমে গেলে তাত্ক্ষণিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসসি) লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীরা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে তাদের তাড়িয়ে দেয়। গ্রেফতার করা হয় ২২ জনকে। আহত হন অনেকে। শেয়ারবাজারে ধসের প্রতিবাদে মতিঝিল কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
ডিএসসিতে আবার কবে লেনদেন শুরু হবে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু না বললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বলেছে, রোববার লেনদেন হবে না। ওইদিন ঠিক হবে কখন আবার লেনদেন শুরু হবে।
টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর এসইসি মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিএসসি সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন ঠেকাতে ২২৫ পয়েন্ট উত্থান বা পতনের সঙ্গে সঙ্গে ডিএসসিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। বুধবার এটা কার্যকর করা হয়েছিল। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর বেলা ১টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ৬০১ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২২৫ পয়েন্ট সূচক পতনের পর কেন লেনদেন বন্ধ হয়নি এর জবাবে ডিএসসির সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ডিএসসির সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় করা যায়নি। আগের দিন এটা ম্যানুয়েলি করা হয়েছিল। গতকাল এত দ্রুত দরপতন হয় যে, নির্দিষ্ট সার্কিট ব্রেকারে ম্যানুয়েলি সেটা করা সম্ভব হয়নি। লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই হাজার বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।
অব্যাহত দরপতনের কারণে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এবং এসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬টি হাউসে অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় এসব হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে এসব হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে দফায় দফায় বড় বড় ধসের পর বিনিয়োগকারীরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা অর্থমন্ত্রী কিংবা সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে না। গত দু’দিনে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও মিডিয়ায় কোন মন্তব্য করেননি। দিন দশেক আগে বিদেশ যাওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যবসা করতে গেলে লাভ-ক্ষতি মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। লাভ হলে মিষ্টি খাবেন, আর ক্ষতি হলে রাস্তায় নামবেন তা হবে না। দরপতন হতে পারে এ মনোভাব নিয়েই ব্যবসা করতে হবে। আর গতকাল অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান খুলনায় শেয়ারবাজারে ধস ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, বাজার ধসে সরকারের মাথাব্যথার কোন কারণ নেই। শেয়ার ব্যবসায়ীদের দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি বলেন, দ্রুত লাভের আশায় অল্প পুঁজি খাটিয়ে যারা নিজেরা লাভবান হতে চায় তাদের জন্য মন কাঁদে না।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, সরকারের মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম অবস্থার সৃষ্টি করে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা চুষে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে ’৯৬ সালেও তারা একই কাজ করেছিল। আওয়ামী লীগ দু’বার ক্ষমতায় থাকার সময়ে একই ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে এর সঙ্গে তারা জড়িত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য এম কে আনোয়ার মন্তব্য করেছেন, ’৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়করা এবারও টাকা লুট করে নিচ্ছে।
ডিএসসি’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ব্যাংকগুলো শেয়ার মার্কেটে খেলে খেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা নিজেরা লাভ করে উঠিয়ে নিয়েছে। কলমানি মার্কেটে তারা এ টাকা ১৮০ ভাগ সুদে খাটাচ্ছে। মানি মার্কেট থেকে শেয়ার মার্কেটের টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তিনি। পুঁজিবাজারে দরপতনে জড়িতদের শাস্তিরও দাবি করেন ডিএসই’র সভাপতি।
সরকারের অর্থ উপদেষ্টা শেয়ারবাজার নিয়ে বর্তমান সরকারের মাথাব্যথার কারণ নেই বলে মন্তব্য করলেও অতীত ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক অবস্থা চললে সরকার ও নিয়ন্ত্রকরা বসে থাকে না। সরকারি কোষাগার থেকে মার্কেটে বিভিন্ন উপায়ে বিনিয়োগ করা হয়। দেশে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ফান্ড আছে। এরা বিভিন্ন লিস্টেড ও প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার কিনে। অবসর গ্রহণের পর সংশ্লিষ্টরা এ থেকে সুবিধা পায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের শাসনামলে পেনশন ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছিল। তখন সরকার থেকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বেইল আউট ফান্ড তৈরি করে শেয়ার মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
টানা ছয়দিন দরপতনের পর বন্ধ শেয়ারবাজার : শেয়ারবাজারে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতন হয়েছে। গতকাল নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর ১টায় লেনদেন শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় ৬০১ পয়েন্ট সূচক পড়ে যায়। পরে গড় হিসাব করে এই দরপতন ৫৮৭ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন বুধবার নির্দিষ্ট সময়ের ২ ঘণ্টা পর লেনদেন শুরু করে ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট লেনদেন শেষে সূচক ২২৫ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় লেনদেন শুরু হয়ে বেলা ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ২৩৭ পয়েন্ট দরপতনের পর এসইসি ঢাকা ও চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এর আগে সোমবার ডিএসসিতে মূল্য সূচকের পতন হয়েছিল ৫৭ পয়েন্ট। রোববার সূচকের পতন হয়েছিল ১৪১ পয়েন্ট। যদিও সেদিন এক পর্যায়ে সূচক ৩১৬ পয়েন্ট কমে গিয়েছিল। আর গত বৃহস্পতিবারে পতন হয়েছিল ১১৫ পয়েন্ট। ডিএসসি’র লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৭টির দামই কমেছে গতকাল। বেড়েছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। গতকাল ডিএসসি’তে মাত্র ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে (১০ জানুয়ারি, মাঝপথে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিন বাদে) ডিএসসি’তে গত ১৫ এপ্রিল সর্বনিম্ন ৭৭২ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ কার্যদিবসেই সূচকের পতন হয়েছে। এর মধ্যে ৯ ও ১০ ডিসেম্বর পর পর দুদিন সূচকের বড় ধরনের পতন হয়। এর মধ্যে ৯ ডিসেম্বর একদিনে ডিএসসিতে সূচকের পতন হয় ৬০০ পয়েন্ট। পরদিন ৫০ মিনিটের মাথায় সূচক ৬৬০ পয়েন্ট পড়ে গেলে ডিএসসি’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এসইসি, ডিএসসি এবং সরকারের প্রতিনিধি যৌথ বৈঠকে বসে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে পরদিন পুনরায় লেনদেন শুরু হয়। ১১ জানুয়ারিতে অস্বাভাবিক হারে সূচক ১ হাজার পয়েন্ট বাড়ে। পরদিন আরও প্রায় ২শ’ পয়েন্ট বাড়লেও এরপর থেকে পর পর তিন কার্যদিবস সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে। ডিএসসি’র সূচক গত ৫ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ যেখানে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে পৌঁছেছিল, কয়েক দফায় তা কমে গতকাল দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১২৩ পয়েন্টে।
৬ ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন বন্ধ : এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬টি হাউসে অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় এসব হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে এসব হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (আইআইডিএফসি), পিএফআই সিকিউরিটিজ, এনসিসি ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং এলায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট। এসব হাউস থেকে বাজার থেকে কম দরে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করার কারণে মাত্র ৫ মিনিটের লেনদেনে গতকাল বাজারের সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে বলে মনে করছে এসইসি। এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী সাংবাদিকদের জানান, আজ (গতকাল) লেনেদেন অস্বভাবাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লেনদেন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর পরই এসইসির কর্মকর্তারা সার্ভিলেন্সে গিয়ে দিনের সব লেনদেন পরীক্ষা করে দেখেন। লেনদেন পরীক্ষা করে ৬টি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বাজারের চেয়ে কম মূল্যে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আগ্রাসী বিক্রির কারণে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন আগামী ১ মাসের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।
গতকালও শেয়ারবাজারে লেনদেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে বেলা ১টা থেকে শুরু হয়। বেলা ৩টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম চালুর কথা থাকলেও মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫৮৭ পয়েন্টের পতন ঘটে। শেয়ারবাজারের লেনদেনের ক্ষেত্রে গত বুধবার সূচকের ওপর যে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয় তার সীমা অতিক্রম করে যাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী, একদিনে সূচকের ২২৫ পয়েন্টের হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ডিএসই সূচক গণনার ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণের কারণে সার্কিট ব্রেকারের নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে গিয়ে লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, সূচক পরিমাপের ক্ষেত্রে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ডিএসই সাধারণ সূচক প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অন্তর সমন্বিত হয়। গতকাল ৫ মিনিট লেনদেনের পর সূচকের সমন্বয় হতেই তা সার্কিট ব্রেকারের সীমা অতিক্রম করে যায়। ফলে দিনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী বলেন, ডিএসই সূচকের ক্ষেত্রে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাতে লেনদেনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সূচকের পরিমাপ নির্ধারিত হয় না। ৫ মিনিট অন্তর অন্তর সূচকের সমন্বয় ঘটে। আর এ সমন্বয় করার সময়ই দেখা গেছে প্রথম ৫ মিনিটে সূচকের পতন হয়েছে ৫৮৫ পয়েন্ট। তিনি আরও বলেন, যদি লেনদেন চলাকালে সূচকের ২২৫ পয়েন্টের হ্রাস বা বৃদ্ধি হতো তাহলে তাত্ক্ষণিকভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতো।
গত কয়েকদিনের টানা দরপতনে টানা বিক্ষোভ চলছে শেয়ারবাজারে। গতকালও শেয়ারবাজারে বিক্ষোভ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা রণক্ষেত্র, আটক ২২ : লেনদেন বন্ধ হওয়ার পরপরই রাস্তায় নেমে পড়ে বিনিয়োগকারীরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় কাগজ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করলে মতিঝিল শাপলাচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় ১৫-২০টি গাড়ি ভাংচুর করে তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ সেখান থেকে ২২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে দরপতনের খবরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ, কারওয়ানবাজার ও মিরপুর এলাকাতেও বিক্ষোভ করে বিনিয়োগকারীরা। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ২টা নাগাদ পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কারওয়ানবাজারে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে মোতায়েন ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। এ ছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়াও র্যাব সদস্যরাও ছিল টহলে। প্রস্তুত ছিল জলকামান। তবে জলকামান ব্যবহার করা হয়নি। দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে পড়লে প্রথমে পুলিশ তাদের বেরিকেড দেয়। তারা যেন জমায়েত হতে না পারে সে চেষ্টা করে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত শত বিনোয়াগকারী রাস্তার দু’পাশ থেকে মিছিল বের করে। পূর্ণিমা সিনেমাহলের ওপর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় পুলিশের ওপর। এরপর বিনিয়োগকারীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। মিছিলে তারা অর্থমন্ত্রী, সিএসসি ও ডিএসসির সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। তারা হরতাল হরতাল বলেও স্লোগান দেয়। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে সবাই সমবেত হয়ে পুলিশকেও ধাওয়া দেয়। পরে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিনিয়োগকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তারা রস্তায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। বিনিয়োগকারীদের দমিয়ে রাখতে কয়েক দফা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যস্ততম মতিঝিল এলাকা যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে। পুলিশ বিনিয়োগকারীদের বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে এবং ২২ জনকে আটক করে পুলিশ মতিঝিল থানায় নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছে পথচারী। পুলিশ ধাওয়া করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আটক করেছে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দেয়ায় তাদের আটক করে গাড়িতে তোলা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও আশপাশের সড়কে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানচলাচল। আগের দিনেও ঠিক একই ধরনের ঘটনায় শতাধিক যানবাহন ভাংচুর হওয়ায় গতকাল মতিঝিলে যানবাহন পার্কিং কম ছিল। সড়ক বন্ধ থাকায় দৈনিক বাংলা মোড় থেকে কমলাপুর এবং ফকিরাপুল থেকে আর কে মিশন রোড পর্যন্ত সড়ক অনেকটাই ফাঁকা ছিল। দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ওইসব সড়কে গাড়ি চলাচল না করায় আশপাশের রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে।
মতিঝিল থানার ওসি সালাহউদ্দিন জানান, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দমাতে পুলিশকে কঠোর থাকতে নির্দেশ রয়েছে। রাস্তায় যানচলাচলে বাধা দেয়া ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কেউ নিরপরাধ হলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। ওসি সালাহউদ্দিন আরও বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা করা হবে। এদিকে মতিঝিল থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) নাসির উদ্দিন বলেন, বুধবারের ঘটনায় দু’জন আটক ও অজ্ঞাত ৯ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। নতুন করে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হবে বলে জানান এসআই নাসির। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৩টায় মতিঝিল এলাকায় ফের গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
বাজার পরিস্থিতি : গতকাল বেলা ১টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই বাজারে ব্যাপক আকারে দরপতন হতে থাকে। দ্রুত পতন ঘটে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সবকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থার সঙ্কট তৈরি হওয়ার কারণে তারা দ্রুত বাজারে তাদের শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। ফলে বাজারে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতার অভাবে শেয়ারের দামের পতন ঘটে। গতকাল লেনদেন হওয়া ১৮২টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমে যায় ১৮০টির। বেড়েছে মাত্র ৮টির এবং অপরবির্তিত ছিল ২টির দাম। অবশ্য ৬টি ব্রোকারেজ হাউস থেকে অস্বাভাবিকভাবে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলে এসইসির প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়েছে। গতকাল সূচকের অস্বাভাবিক দরপতনের পেছনে এটি একটি বড় কারণ বলে মনে করছে তারা। এ জন্য ওই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেন কার্যক্রম ১ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অবশ্য গতকাল ৫ মিনিটে শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার। ১০ হাজার ৪৩৩টি হাওলায় এ সময়ে হাতবদল হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৮টি।
এসইসির ব্রিফিং : শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এসইসি। এতে এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী বলেন, অস্বাভাবিক হারে শেয়ার বিক্রির কারণে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম ১ মাস বন্ধ থাকবে। তাত্ক্ষণিকভাবেই এসব ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে কারণ দর্শানো নোটিশ ও শুনানির জন্য ডাকা হয়। কিন্তু আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এখন তাদের শুনানির জন্য ডাকা হবে এবং তাদের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে সেসব হাউসের বিনিয়োগকারীদের ডিপি সাসপেন্ড করা হয়নি বলে জানান ইয়াছিন আলী। তিনি বলেন, এসব হাউসের বিনিয়োগকারীরা লিংক একাউন্টের মধ্যে অন্য ব্রোকারেজ হাউসে ট্রান্সফার করে লেনদেন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
সব বড় দরপতনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : গত ৮ ডিসেম্বর থেকে গতকালের আগ পর্যন্ত যতগুলো বড় ধরনের দরপতন হয়েছে তার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৮ ডিসেম্বরে বড় ধরনের দরপতনের পর চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এসইসি। এক মাসের সময় দিয়ে এ কমিটিকে তদন্ত কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিটির মেয়াদ আরও দেড় মাস বাড়ানো হয়েছে। আর এ কমিটি ৮ ডিসেম্বরের পর যে কয়টি বড় ধরনের দরপতন হয়েছে সব কয়টির কারণ অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছেন এসইসির সদস্য ইয়াছিন আলী।
সার্কিট ব্রেকার নতুন আতঙ্ক : শেয়ারবাজারের লেনদেনে বড় ধরনের উত্থান-পতন ঠেকাতে সূচকের সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং সূচকের সার্কিট ব্রেকার বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। গতকাল মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এটিকে এখন বাজারের জন্য নতুন আতঙ্ক হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা মনে করছেন, কারসাজি করে এখন যে কোনো মুহূর্তে বাজার বন্ধ করে দেয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে

Saturday, 29 January 2011

১০ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার : বন্ধ হয়ে গেছে দেশের ৫ শতাধিক রি-রোলিং মিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বন্ধ হয়ে গেছে দেশের ৫ শতাধিক রিরোলিং মিল ও স্টিল মিল। দেশে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েক মাস ধরে লৌহজাত শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রড তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ না থাকায় রিরোলিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেকার হয়ে পড়েছে ১০ লাখ শ্রমিক।
স্ক্র্যাপ জাহাজের অভাবে সীতাকুণ্ডে অবস্থিত অর্ধশত শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ৪০টি ইয়ার্ড এরই মধ্যে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ৮-১০টি ইয়ার্ডে কাঁচামাল থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে কার্যক্রম চালাতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণ সামগ্রীর প্রধান উপাদান রডের মূল্য হু-হু করে বাড়ছে।
বাংলাদেশ রিরোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, দেশের রিরোলিং মিলগুলোতে রড তৈরিতে প্রায় ৮০ ভাগ কাঁচামাল আসে শিপইয়ার্ড থেকে। পুরনো জাহাজ আনতে না পারায় এরই মধ্যে অধিকাংশ ইয়ার্ড বন্ধ রয়েছে। যে কয়টি ইয়ার্ডে জাহাজ কাটা হচ্ছে তারা লোহার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোলিং মিল চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা ঘোষণা দিয়ে মিলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক রোলিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে রডের দাম দিন দিন বাড়ছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি টন লোহার দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৪০ গ্রেডের এমএস (ম্যানুফেকচারিং স্টিল) রডের দাম প্রতি মেট্রিক টন ৪৯ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আর প্রতি মেট্রিক টন ৬০ গ্রেড রডের দাম ৫৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে দাম বাড়ছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জাহাজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে উচ্চ আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ কাটা নিয়ে অচলাবস্থার শুরু হয়। পরে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে একসঙ্গে আমদানি করা ১৬টি জাহাজ নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। শিপইয়ার্ডে বিচিংয়ের অনুমতি না পাওয়ায় এসব জাহাজ বহুদিন বন্দরের বহির্নোঙরে ভেসে ছিল। পরে পরিবেশ অধিদফতর থেকে জাহাজগুলোর বিচিংয়ের অনুমতি দেয়া হলেও কাটার অনুমতি দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে আমদানি করা আরও ৪টি স্ক্র্যাপ জাহাজ বন্দর বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। মোট ২০টি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙা অনিশ্চিত রয়েছে। হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ে বিধিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ ভাঙার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে আমদানি করা স্ক্র্যাপ জাহাজগুলো কোনো কাজে আসছে না। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠন সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ডগুলোতে অন্তত ১৫ লাখ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন কাটার কাজ চলছে এমন স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে রিরোলিং মিলে সরবরাহ করার মতো এক লাখ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপও নেই। এজন্য বাজারে রডের দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ রিরোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টিল স্ক্র্যাপ বায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় অচলাবস্থা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত গতকাল থেকে রিরোলিং ও স্টিল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেলা এবং শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হতে চলেছে। সেইসঙ্গে ভেস্তে যাবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। রিরোলিং শিল্পের মালিকরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ অচলাবস্থার নিরসন না হওয়া পর্যস্ত সব রিরোলিং ও স্টিল মিল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আদমজী ইপিজেডে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

আদমজী ইপিজেডে বন্ধকৃত হাইল্যান সোয়েটার কারখানার সাড়ে ৭ শতাধিক শ্রমিক গতকাল তাদের বকেয়া বেতন চাইতে গেলে র্যাব ও পুলিশ শ্রমিকদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রকিরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মী লিটন সরদার, অহিদুল ইসলাম, গোলাম হায়দার, শ্রমিক আকবর, শারমিন, সাইফুল, জাহাঙ্গীর, সুরভী, শিপন, শামীম, ইমাম আলীসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা আদমজী-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে র্যাব ও পুুলিশ তাদের আবারও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটায় শ্রমিকরা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ৩ শতাধিক শ্রমিকসহ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা জানায়, গত ৪ জানুয়ারি শ্রমিকদের না জানিয়ে ও বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে রাতের আঁধারে গেটে নোটিশ টানিয়ে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। ৫ জানুয়ারি শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিশ দেখতে পায়। এরপর শ্রমিকরা আদমজী ইপিজেডের জিএমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের ব্যাপারে আলোচনা করে। আলোচনা শেষে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০ জানুয়ারি (গতকাল) তাদের পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকরা গতকাল কারখানার প্রধান নিয়ন্ত্রণ (পরিচালনা) জাকিরুল রাব্বী মিকির কাছে তাদের বকেয়া পাওনাদি দিতে বলে। এ সময় এ কর্মকর্তা পাওনাদি পরিশোধের ব্যাপারে কোনো কথা না বলে ইপিজেডের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, র্যাব ও পুলিশ ডাকেন।
র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন। এরপর শ্রমিকদের কোনো কথা না শুনেই তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। র্যাব ও পুলিশের লাঠিচার্জে শ্রকিরা দিগ্বিদিক ছুটে চলে যায়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শারমিন, সাইফুল ও জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করে, বেপজার জিএম মেহবুব আলী কারখানার মালিকের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের বিপক্ষে কথা বলছেন। বেপজার জিএমের সামনে র্যাব ও পুলিশ বিনা কারণে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এছাড়াও বলে, বেতন না পাওয়ার কারণে আমরা না খেয়ে আছি। বাড়িওয়ালারা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। নির্যাতিত শ্রমিকরা বিনা কারণে তাদের ওপর নির্যাতন ও বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ ব্যাপারে বেপজার জিএম মেহবুব আলীর সঙ্গে বারবার মোবাইলে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইপিজেডের নিরাপত্তা পরামর্শক কর্মকর্তা মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকরা নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। নিরাপত্তা কর্মীদের কেউ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়নি।
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি বলেন, বেপজার জিএম, র্যাব ও পুলিশের উপস্থিতিতে মালিক পক্ষ শ্রমিকের পাওনাদি ১৬ জানুয়ারি পরিশোধের কথা বললে শ্রকিরা তা না মেনে পুলিশ ও র্যাবের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ও র্যাব শ্রকিদের ওপর অ্যাকশনে যায়।
উল্লেখ্য, বেপজার পাওনা আড়াই লাখ ডলার হাইল্যান কর্তৃপক্ষ পরিশোধ না করতে পারায় বেপজা কারখানাটি টার্মিনেট করে গত ৮ ডিসেম্বর। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জানুয়ারি হাইল্যান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ না করে রাতের আঁধারে কারখানা গেটে বন্ধের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়। এরপর থেকে শ্রমিকরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছে।

দেশ যেভাবে চলছে তাতে মনে হয় কোনো সরকার নেই : কর্নেল অলি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মহাজোটের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষের দিনবদল হয়নি। গত দুই বছরে সরকার দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। দেশ যেভাবে চলছে তাতে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। জনগণের অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। এই অসন্তোষ গণবিদ্রোহে রূপ নিতে পারে। মনে রাখতে হবে ‘প্রয়োজন’ আইন মানে না। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি প্রশাসনে গতি ফিরিয়ে আনতে দেশকে ১১টি প্রদেশে বিভক্ত করে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। এছাড়া ২০১১ সাল সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কর্নেল অলি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। যারা ক্ষমতায় আছেন আইন তাদের জন্য একরকম আর বিরোধী দলের জন্য অন্যরকম। রাগ, ক্ষোভ, প্রতিহিংসা, কথায় কথায় টিপ্পনি, অসম্মানজনক বক্তব্য প্রদান, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ দেশকে ধ্বংস ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে সরকার ততই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে সরকার চরম অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছে। অপরদিকে সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং মন্ত্রী এমপিদের অনেকে টেন্ডারবাজি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকার যেন অন্ধ ও বধির।
কর্নেল অলি বলেন, প্রতিদিন দেশে দুর্নীতি বেড়ে চলেছে। এত বেশি দুর্নীতি আগে কখনও হয়নি। দুর্নীতিতে মন্ত্রী-এমপিদের নামও আসছে। গত দুই বছরে কোনো দুর্নীতিবাজকে গ্রেফতার করতে পারেনি সরকার। টিআইবি দুর্নীতির কথা বলছে বলে সরকার তাদের প্রতি ভালো আচরণ করছে না। গত দুই বছরে দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে কর্নেল অলি বলেন, গরু ছাগলের হাট থেকে শুরু করে নাপিতের দোকান পর্যন্ত চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৪০ বছরের মধ্যে দ্রব্যমূল্য এখন সর্বোচ্চ। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। বিদ্যুত্ ও গ্যাস খাতের অবস্থাও ভয়াবহ। কেউ দেশে বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছেন না। জনশক্তি রফতানিতে ধস নেমেছে। কমে গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি করে কম্পিউটার দিয়েই সরকার মনে করছে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে ফেলেছে। অথচ ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলো কখনও নিজেদের ডিজিটাল বলে দাবি করে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়টিই এখনও পরিষ্কার নয়।

বিনিয়োগকারীদের কুলখানির মিষ্টি খেতে চান অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

শেয়ারবাজারে দরপতনের ঘটনায় অর্থমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বলেন, অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বহীন বক্তব্যের কারণে শেয়ারবাজারে আজও (গতকাল) দরপতন হয়েছে। শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন হলেও তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার পরিবর্তে তাদের সঙ্গে উপহাস করেছেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে উপহাস করেছেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের ‘মিষ্টি না খাওয়ানোর’ কথা বলছেন। ফারুক আহমেদ নামে এক বিক্ষুব্ধ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি (অর্থমন্ত্রী) মিষ্টি খেতে চেয়েছিলেন। আমরা অর্থমন্ত্রীকে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর কুলখানির মিষ্টি খাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, রোববার একদিনেই ডিএসই সাধারণ সূচকে ৬০০ পয়েন্টের পতন হলে ওইদিন সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন অর্থমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, শেয়ারের দাম ৫ টাকা কমে গেলে রাস্তায় নেমে এসে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে; কিন্তু শেয়ারের দাম ৫০০ টাকা বাড়লে তো মিষ্টি খাওয়ান না।’
অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে বিনিয়োগকারীরা দায়িত্বজ্ঞানহীন উল্লেখ করে বলেন, পুঁজিবাজারের এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর উচিত ছিল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া। বাজারে ভয়াবহ দরপতন হওয়ার পেছনে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার ঘোষণা দেয়া; কিন্তু তিনি এসব কিছুই বলেননি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন। তার বক্তব্যের কারণেই শেয়ারবাজারে আরও দরপতন হয়েছে। শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তাদের পরিবারের ভাগ্য জড়িত। তিনি এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
আমরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে এসেছি। কর্মসংস্থান না থাকার কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আসতে বাধ্য হয়েছি উল্লেখ করে সারোয়ার আহমেদ নামে এক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেন, আমার লেখাপড়া শেষ করে চাকরি না পেয়ে শেয়ারবাজারে এসেছি। কিন্তু এখন আমরা পুঁজি হারিয়েছি। এর দায় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।
বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সরকারি শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বারবার ঘোষণা দিয়েও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারি শেয়ার ছাড়া হলে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধন হতো। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না। তিনি গত বছরের জুনের মধ্যে সরকারের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন; কিন্তু একটি কোম্পানিরও শেয়ার ছাড়া হয়নি। এরপর অর্থমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর আবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তালিকাভুক্ত ৮টি কোম্পানির আরও শেয়ার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ছাড়া হবে এবং ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যে আরও ২৪টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়া হবে। অর্থমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর তালিকাভুক্ত সরকারি ৮টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায়। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি ওইসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়া হয়নি। এ জন্য বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাই এর দায় অর্থমন্ত্রীকে নিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা আরও বলেন, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির কারণে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অভিহিত মূল্য পরিবর্তন হলে কোম্পানির আয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন না হলেও কারসাজি করে কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। শেয়ারবাজার অতিমূল্যায়িত হওয়ার পেছনে এটি একটি বড় কারণ বলে অভিযোগ করে বিনিয়োগকারীরা বলেন, এসব দায় অর্থমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তাই অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সারাদিনই বিনিয়োগকারীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করেছে। এসব মিছিলে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এসইসির চেয়ারম্যান ও ডিএসইর প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

Saturday, 22 January 2011

শ্রমিকদের বিক্ষোভ : সাভারে দুটি গার্মেন্ট অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

সাভার প্রতিনিধি

সাভারের জামগড়া এলাকায় দুটি গার্মেন্ট কারখানায় গতকাল তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য পরিস্থিতি সামাল দেয়। দুটি কারখানাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, জামগড়ার ইউনিভার্স নিটিং কারখানায় ৩২ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে শ্রমিকরা। এ কারখানায় ১ হাজার ৭শ’ শ্রমিক কর্মরত। বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি ৩২ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। অব্যাহত বিক্ষোভের ফলে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাটি গতকাল অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করে।
অপর দিকে একই এলাকার মদিনা অ্যাপারেলস ফ্যাশন ক্যাপস লিঃ কারখানাটি শনিবার রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি এ কারখানার শ্রমিকরা দুই কর্মকর্তাকে মারধর করায় কর্তৃপক্ষ ২২ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে এ কারখানার প্রায় ৭শ’ শ্রমিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। শনিবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে তারা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। এ দিন রাতে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ ঘোষিত কারখানার শ্রমিকরা গতকাল বিক্ষোভ করেছে। কারখানা দুটির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সাভারে অস্ত্র ও গুলিসহ ৩ ছিনতাইকারী আটক : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জাবি এলাকায় ফয়সল নার্সারির সামনে থেকে শনিবার রাতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে র্যাব-৪-এর সদস্যরা বিদেশি রিভলবার, গুলি, পাইপগান ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রসহ মানিক মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বেলাল হোসেন ওরফে জালাল নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
তাদের শরীর তল্লাশি করে একটি বিদেশি রিভলবার, দুইটি কার্তুজ, একটি দেশি তৈরি পাইপগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল ও দুটি ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়। রিভলবারের গায়ে মেইড ইন ইংল্যান্ড লেখা রয়েছে।
র্যাব-৪ এর ক্যাপ্টেন মেহেদী ইমাম জানান, আটককৃতদের র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় ছিনতাই করার কথা স্বীকার করে। তারা বলে, ঢাকা-আরিচা মহসড়কে স্পিড ব্রেকারের কাছে গাড়ি, রিকশা বা মোটরসাইকেলের গতি ধীর হলে ওই সব বাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা বা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করে থাকে। এ ব্যাপারে র্যাব বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
আশুলিয়া থানার ওসি কাজী সিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত মানিক মিয়া সম্প্রতি আশুলিয়া এলাকায় রাঙামাটির জেলা জজ ছিনতাইয়ের শিকার ওই মামলার পলাতক আসামি। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল।

জনশক্তি রফতানিতে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী মুখোমুখি : পরস্পরের বিরুদ্ধে এই খাত ধ্বংসের অভিযোগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) নেতারা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জনশক্তি রফতানি খাত ধ্বংসের অভিযোগ করছেন তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে। এই দ্বন্দ্ব এখন আরও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়। জনশক্তি রফতানি ব্যবসা কে করবে—সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল নাকি বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলছেন, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমাতে সরকার বোয়েসেলের মাধ্যমে জনশক্তি রফতানির উদ্যোগ নিচ্ছে। অপরদিকে বায়রার নেতারা বলছেন, এ ব্যবসা আরও ধ্বংস করতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তারা বলছেন, বেসরকারি রফতানিকারকদের বাদ দিয়ে সরকারিভাবে জনশক্তি রফতানি-প্রক্রিয়া শুরু করা হলে শ্রমবাজার ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বায়রার নেতারা যে কোনো মূল্যে এই প্রক্রিয়া প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
বায়রার সদস্যদের নিয়ে সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা জনশক্তি রফতানি বাজারে মন্দার জন্য সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেয়াকে দায়ী করেছেন। তারা শ্রম ও কর্মস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেন। তারা বলেন, মন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণেই জনশক্তি রফতানি কমছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত ও মালয়েশিয়ার বাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে তারা স্পষ্টভাবে জানান। তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী এ খাতে নানা সমস্যার জন্য জনশক্তি রফতানিকারকদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় ব্যবসায়ীরা বেশি টাকা নেয়ার কারণে মূল সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বলার পরও অতিরিক্ত অভিবাসন খরচ কমাচ্ছে না রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলেই নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় চার লাখ লোক অবৈধ হয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অভিবাসন খরচই দায়ী। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে এই লোকগুলো সেখানে গেছেন। সেই টাকা তোলার জন্য তাদের নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সেখানে অবস্থান করতে হচ্ছে। আর এটি করতে গিয়ে তারা এখন সেখানে অবৈধ হয়ে আছেন।
গতকাল মালয়েশিয়া সরকারের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তিন দিনের সফরে ঢাকা এসেছে। আজ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে সরকারিভাবে লোক পাঠানোর বিষয়ে কথা হবে। সরকার আশা করছে, সবকিছু চূড়ান্ত হলে আগামী জুনের আগেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের বাজার চালু করা যাবে।
তবে সরকারিভাবে লোক পাঠানোর এই খবরে উদ্বিগ্ন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা। বায়রার সভাপতি আবুল বাসার বলেন, সরকারই যদি ব্যবসা করতে নামে, তাহলে এই খাতে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা ১১শ’ রফতানিকারক কোথায় যাবেন?
তিনি বলেন, গত ২৬ বছরে বোয়েসেল মাত্র ১৭ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। আর বেসরকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গেছে ৭০ লাখ। এই তথ্যই প্রমাণ করে বোয়েসেলের প্রতিবছর কয়েক লাখ লোক বিদেশে পাঠানোর মতো যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে ব্যবসায় নামানো সরকারসহ কারও জন্যই সুফল বয়ে আনবে না। কারণ সরকার ব্যবসায় জড়িত হলে আমলাতান্ত্রিক বা অবকাঠামোগত নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘসূত্রতায় কর্মী রফতানি-প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে।
তবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, অতিরিক্ত অভিবাসন খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য—এসব কারণেই মালয়েশিয়ার বাজার দেড় বছর ধরে বন্ধ। আগে বাজার চালু করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই বাজার চালুর একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন সরকারিভাবে লোক পাঠিয়ে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা গেলে বাজার ধরে রাখা যাবে। আর যারা লোক নেবে, সেই মালয়েশিয়াই সরকারিভাবে লোক চাইছে। এখন বাজার খোলার আগেই যদি বায়রা বিরোধিতা করে তাহলে সেটি বড় সমস্যা। তবে সরকার কারও অনৈতিক দাবির মুখে মাথা নত করবে না। তাই সরকারিভাবেই লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া চলবে। এর ফলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বাংলাদেশের একজন কর্মী বিদেশে যেতে পারবেন। সেখানে অন্তত পাঁচ বছর থাকতে পারবেন। এতে খুব সহজেই তারা খরচের টাকা তুলতে পারবেন।
মালয়েশীয় প্রতিনিধি দলের সফর প্রসঙ্গে বায়রার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজ-উল-ইসলাম বলেন, এটাকে আমরা খুবই পজিটিভলি দেখছি। আমরা আশা করছি, এ বিষয়ে সরকার ভালো পদক্ষেপই গ্রহণ করবে। সরকার ব্যবসা না করে নীতি নির্ধারণীমূলক কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তথ্য বিবরণী : গতকাল তথ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো এক বিবরণীতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তারা সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া ও লেবানন সফর করেছেন। সফরকালে সেসব দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় দেখা যায়, কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশীদের অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ। কর্মীরা যে ব্যয় করে প্রবাসে যান চুক্তিকালীন মেয়াদে সে ব্যয় কোনোভাবেই তুলে আনতে পারেন না। ফলে অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফিরে না আসায় অবৈধ হয়ে পড়েন। শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য বিষয়টি উদ্বেগের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে তারা নিরুত্সাহিত বোধ করে। উদাহরণস্বরূপ মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে একপথ বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় ৮৪ হাজার টাকা সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করলেও তার চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ব্যয়ে একজনকে মালয়েশিয়া প্রেরণ করা হয়।
অব্যাহত প্রচেষ্টায় যখন বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তখন নিজেদের মধ্যে এজাতীয় বিতর্ক এবং ভুল বোঝাবুঝি শ্রমিক গ্রহণকারী দেশে ভুল বার্তা প্রেরণ করতে পারে, ফলে এ প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। সরেজমিন নিরীক্ষণের জন্য মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল গতকাল বাংলাদেশ সফরে এসেছে বলেও জানানো হয়। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি করবে।
মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে অতীতের মতো প্রকৃত চাহিদার বাইরে কোনো লোক যাতে না যায়, অভিবাসন ব্যয় যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে—এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। দেশটিতে এ পর্যায়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চালু করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অবশ্যই বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় লোক প্রেরণ করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ এবং ২০০৮ সালে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ বাংলাদেশী কর্মী বিদেশে চাকরি নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এই সংখ্যা কমে হয় চার লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন। সেসময় জনশক্তি রফতানিকারকরা ভেবেছিলেন, বিশ্বমন্দা কেটে গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ২০১০ সালে জনশক্তি রফতানি আরও কমে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭০২ জনে দাঁড়ায়।